শেষ হলো তিন দিনের আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্মেলন
ভবিষ্যত প্রযুক্তি নিয়ে বিশ্বের ১২টি দেশের বিজ্ঞানী, প্রকৌশলী ও গবেষকদের ৭১৫টি অ্যাবসট্রাক্ট গ্রহণের মধ্য দিয়ে শেষ হলো তিন দিনের আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্মেলন।
বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদের (বিসিএসআইআর) ঢাকা ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত সম্মেলনের সমপনী ঘোষণা করেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে হাসি-ঠাট্টা এবং বিরোধীদের সমালোচনা উপেক্ষা করে ডিজিটাল বাংলাদেশ এখন বাস্তবতা উল্লেখ করেন তথ্যমন্ত্রী।
তিনি বলেছেন, এখন সহজেই কৃষি অফিসাররা অফিসে বসেই মাঠের কৃষককে পরামর্শ দিতে পারছেন। টেলিমেডিসিন আজ বাস্তবতা। গ্রামে বসেই বিদেশে কর্মরত সন্তানের কাছ থেকে মহেূর্তে টাকা গ্রহণ করতে পারছেন।
বিভিন্ন জাতের ধান এবং লবণাক্ত সহনশীল শস্য উদ্ভাবনে বাংলাদেশের বিজ্ঞানীদের প্রশংসা করে এই অর্জন কেবল বাংলাদেশ নয় বিশ্বকেও সমৃদ্ধ করেছে বলে মন্তব্য করেন ড. হাছান মাহমুদ।
এসব প্রযুক্তির কল্যাণেই বাংলাদেশ আজ গরিব থেকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন ড. হাছান মাহমুদ। বলেছেন, আজকের এই অর্জনে বাংলাদেশের বিজ্ঞানীদের অবদান অনেক। তাদের বুদ্ধিত্তার করণেই আজ আমরা গরীব নই। তারা বিভিন্ন দেশ থেকে দেশের উন্নয়নের রূপান্তরে অবদান রেখেছেন।
বিসিএসআইআর সভাপতি অধ্যাপক ড. আফতাব আলী শেখের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান পৃষ্ঠোপোষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মুহিবুল হাসান চৌধুরী।
এসময় তিনি ইরান ও জার্মানের মতো সায়েন্টিফিক জার্নালগুলো বাংলা ভাষায় অনুবাদ এবং তা স্কুলে ঐচ্ছিক পাঠ্য হিসেবে অন্তর্ভূক্তির জন্য বিসিএসআইআর-কে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান শিক্ষা উপমন্ত্রী।
এর আগে সম্মেলনে অংশগ্রহণকারীদের মধ্য থেকে রাজশাহী মাদার ক্লিনিকের ডিরেক্টর প্রসুতি বিশেজ্ঞ ডা. শাহানা, টেকনিক্যাল সেশনের সভাপতি অধ্যাপক নিলুফার নাহার বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠান শেষে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন আইসিএসটিবি ২০২১ আয়োজক কমিটির সচিব ড. মুহাম্মাদ সারওয়ার জাহান।
সম্মেলনে ভার্চুয়াল মাধ্যমে ২৫টি বিষয়ে অনুষ্ঠিত হয় ১২টি প্যারালাল সেশন। এসব সেশনের মধ্যে বঙ্গবন্ধুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি দর্শনের ওপর ৬টি প্লানারি লেকচার এবং ৮টি সায়েন্স লেকচার অনুষ্ঠিত হয়েছে। একইসঙ্গে ৬৯টি কি-নোট ও ৬৮টি অভ্যাগত ভাষণ, ৩৮৯টি মৌখিক উপস্থাপনা এবং বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ের ওপর ১৭৫টি পোস্টার প্রদর্শন করা হয়।
এর মধ্যে সেরা পোস্টারের পুরস্কার পেয়েছেন বিসিএসআইআর এর বিজ্ঞানী আবু কাওসার। বহুমুখী সোলার সিম্যুলেটর ধারণা দিয়ে এই পুরস্কার জিতেন তিনি।
এছাড়াও বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের টি রহমান প্রথম রানার্স আপ এবং চাতাল বয়লার পোস্টার দিয়ে সেকেন্ড রানার্স আপ হয়েছে বিসিএসআইআর ঢাকার বিজ্ঞানী রজত শুভ্র চক্রবর্তী।